Main Menu

সভ্যতার অনুপ্রেরণা লাকী আখন্দ

সংগীতশিল্পী কারিশমা শানু সভ্যতা। ছবি : সংগৃহীত
এ সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের মধ্যে একজন কারিশমা শানু সভ্যতা। দীর্ঘদিন মিশ্র অ্যালবামে গান গাইলেও প্রথমবারের মতো একক অ্যালবামের জন্য গান গেয়েছেন সভ্যতা। অ্যালবামের নাম ‘যদি থাকতো ডানা’। চলতি বছরে প্রথমে অনলাইনে জিপি মিউজিকে অ্যালবামটি প্রকাশ করা হয়। শিগগির অ্যালবামটি সিডি আকারে বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছেন সভ্যতা। অ্যালবামটি ও অন্যান্য প্রসঙ্গে এনটিভি অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

এনটিভি অনলাইন : আপনার ‘যদি থাকতো ডানা’ অ্যালবামে মোট কয়টি গান রয়েছে?

কারিশমা শানু সভ্যতা : মৌলিক গান ছয়টি রয়েছে। একটি ট্রিবিউট গানও আছে। নাম ‘ত্রিরত্ন’। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও দ্বিজেন্দ্র লাল রায়কে শ্রদ্ধা জানিয়ে গানটি আমি করেছি। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন সন্ধি ভাইয়া। বাকি ছয়টি গানের সংগীতায়োজনে ছিলেন শাহরিন শাহরিয়ার, অ্যালিস্টার সরকার রাজ, সামিউল ওয়াহিদ। আর গানগুলো আমার লেখা ও সুর করা।

এনটিভি অনলাইন : আপনার ‘ত্রিরত্ন’ গানটি তো আগেই ইউটিউবে প্রকাশ হয়েছিল?

কারিশমা শানু সভ্যতা : গানটি করে আমার খুব ভালো লেগেছে। আরাম পেয়েছি আমি। ভাবলাম প্রথম অ্যালবামে তিন রত্নের গান থাকলে মন্দ হয় না বরং খুব ভালো হয়। তাই রেখেছি।

এনটিভি অনলাইন : একসঙ্গে গান লেখা, সুর করা, কণ্ঠ দেওয়া কি কঠিন কাজ নয়?

কারিশমা শানু সভ্যতা : আমি উপভোগ করি। ‘যদি থাকতো ডানা’ গানটি আমি স্কুলে পড়ার সময় লেখেছিলাম। যখন যা করতে ভালো লাগে তখন আমি তাই করি। সৎ ইচ্ছে ও চেষ্টা থাকলে সবকিছু সহজে করা সম্ভব।

এনটিভি অনলাইন : অ্যালবামটি সিডি আকারে কবে আসবে?

কারিশমা শানু সভ্যতা : আসছে জুলাইয়ের সাত তারিখ। আপতত এই তারিখটি নির্ধারণ করেছি।

এনটিভি অনলাইন : কেমন লাগছে?

কারিশমা শানু সভ্যতা : অনলাইনে প্রথম যখন অ্যালবামটি প্রকাশ পায় তখন খুব ভয় লেগেছিল। আবার মনে মনে উচ্ছ্বসিতও ছিলাম। অ্যালবামটি করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। বলতে পারেন, অ্যালবামটি বের করতে আমার ১০ বছর সময় লাগল। আমার জীবনের জার্নি এই অ্যালবামের গানগুলোর কথায় প্রকাশিত হয়েছে। অনুভূতি তো অবশ্যই ভালো।

এনটিভি অনলাইন : আপনি তো গিটার, পিয়ানো, বাঁশি, মাউথ ওরগান, আরো অনেক সংগীত যন্ত্র বাজাতে পারেন। এসব শেখার আগ্রহ কবে থেকে হয়েছে?

কারিশমা শানু সভ্যতা : ছোটবেলা থেকে সংগীত ও সংগীত যন্ত্রের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। লাকী আখন্দ আংকেল আমাদের বাসায় আসতেন। তিনি সব ধরনের যন্ত্র বাজাতে পারতেন। তাঁকে দেখে আমি অনেক অনুপ্রাণিত হতাম। একদিন আংকেল আমার মাকে বলেছিলেন, ‘সভ্যতা, বড় হয়ে একদিন মিউজিশিয়ান হতে পারবে। সভ্যতাকে ভালো টিচারের কাছে গান শিখতে দিতে পারেন।’ লাকী আংকেলের কথা শুনে মা আমাকে বাদ্যযন্ত্র ও গান শেখার অনুমতি দেন। মা, তাঁর জমানো টাকা দিয়ে আমাকে গিটার কিনে দেন। এরপর থেকে সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র মা তাঁর জমানো টাকা দিয়ে আমাকে কিনে দিয়েছেন।

এনটিভি অনলাইন : কোন বাদ্যযন্ত্র বাজাতে বেশি পছন্দ করেন?

কারিশমা শানু সভ্যতা : গিটার। ব্যাকরণ জানা থাকলে সব বাদ্যযন্ত্র সহজে বাজানো সম্ভব।

এনটিভি অনলাইন : গত বছর এই সময়ে নেপালের এক পাহাড়ে আপনি উঠেছিলেন। কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?

কারিশমা শানু সভ্যতা : ফাটাফাটি। পাহাড়ে উঠতে চারদিন লেগেছিল। পানি ও নুডলস খেয়েছিলাম। পাহাড়ে উঠার দুই মাস আগে পরিকল্পনা করেছিলাম। আমার তেমন প্রস্তুতি ছিল না। রাতুল নামে আমার এক বন্ধু ভারতে আছে। তাকে একদিন বললাম, ‘আমার মন খারাপ, কী করা যায়?’ তখন রাতুল আমাকে পাহাড়ে উঠার পরামর্শ দিয়েছিল। এভাবে আসলে একদিন পাহাড়ে উঠা হয়েছিল। পাহাড়ে উঠার পর হিমালয় ও চারপাশের প্রকৃতি দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। অন্যরকম অনুভূতি।

এনটিভি অনলাইন : এ বছরের শুরুতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আপনার বাম পায়ের অপারেশন হয়েছিল। এখন কী অবস্থা?

কারিশমা শানু সভ্যতা : পায়ের ব্যান্ডেজ কিছুদিন আগে খোলা হয়েছে। এখন ভালো আছি। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরো কিছুদিন লাগবে।

এনটিভি অনলাইন : সময় এখন কীভাবে কাটছে?

কারিশমা শানু সভ্যতা : ছবি আঁকছি, নতুন তিনটি গান করেছি। এ ছাড়া আমি একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে সংগীতের শিক্ষক। সেখানেও নিয়মিত যাচ্ছি।






আপনার মতামত দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*